
ইতিহাসে বিখ্যাত গণিতবিদ
এমন অনেক গণিতবিদ আছে যারা বিশ্বের ইতিহাসে বিখ্যাত গণিতবিদ।আবার প্রত্যেকে গণিতের বিভিন্ন শাখায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। এরকম কয়েকজন গণিতবিদ হলো আল-খোয়ারিজমি, জন নেপিয়ার, জোহান কার্ল ফ্রেডরিক গাউস, । এরা সবাই ইতিহাসের সমানভাবে বিখ্যাত গণিতবিদ।একজনের নাম আলাদা ভাবে বলা খুবই মুশকিল; কারন নানা গণিতবিদ নানা দিকে তাঁর অবদান রেখেছেন।
আল-খোয়ারিজমিঃ
জন্ম : 790 খ্রিষ্টাব্দ
মৃত্যু : 850 খ্রিষ্টাব্দ
আয়ুষ্কাল : 60 বছর
জন্মস্থান : খোয়ারিজম শহর
আল খোয়ারিজমি ( 790 – 850 ) এর পূর্ণ নাম Abu – Abdullah Muhammad Ibn Musa Al-Khwarizmi. তিনি মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোর্তিবিজ্ঞানী। সোভিয়েত রাশিয়ার আরব সাগরে পতিত আমু দরিয়া নদীর একটি দ্বীপের নিকটে অবস্থিত খোয়ারিজম নামক শহরে তিনি জন্মগ্ৰহণ করেন। বীজগণিতকে তিনিই প্রথম গণিতশাস্ত্রের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলেন এবং এর প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ভায়তীয়রাই প্রথম বীজগণিত নিয়ে গবেষণা করে এবং গ্ৰিকদের মধ্যে কেবল ডায়াফ্যান্টার ব্যতিত আর কাউকে বীজগণিত নিয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা করতে দেখা যায়নি। ভারতীয়দের গাণিতিক উৎকর্ষের সময়টা অনেক প্রাচীন ছিল। সুতরাং খোয়ারিজমির সময় বীজগণিতের অবস্থা ছিল প্রতীয়মান। এ সময় তিনি বীজগণিতের ভিত্তি স্থাপন করে আধুনিক গণিতের পথকে অনেকটাই কুসুমাস্তীর্ণ করে তোলেন। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে হিন্দু গণিতবিদগণ দশমিক পদ্ধতির আবিষ্কার করেন। হিন্দুদের উদ্ভাবিত এই দশমিক পদ্ধতি খোয়ারিজমিই প্রথম আরব জগতে নিয়ে আসেন।
জন নেপিয়ারঃ
জন্ম : 1550 সাল
মৃত্যু : 1617 সাল
আয়ুষ্কাল : 67 বছর
জন নেপিয়ার ( John Napier ) একজন স্বটিশ গণিতবিদ। তিনি 1550 সালে এডিনবরার মার্চিস্টন প্রাসাদে জন্মগ্ৰহণ করেন। তিনি অ্যান্ডুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। নেপিয়ার বেশি খ্যাত তাঁর উদ্ভাবিত লগারিদম ব্যবস্থার জন্য। তিনি 1614 সালে Canonis Descriptio গ্ৰন্থে লগারিদমের ব্যাপারে ব্যাখ্যা করেন। বর্তমানকালে সাধারণ ও স্বাভাবিক লগারিদম ব্যবস্থাগুলি অবশ্য নেপিয়ারের লগারিদমের ভিত্তি ব্যবহার করে না। তবে এখনও স্বাভাবিক লগারিদমকে মাঝে মাঝে নেপিয়ারীয় লগারিদম ডাকা হয়। নেপিয়ার ছিলেন প্রথম গণিতবিদ যিনি সুশৃঙ্খলভাবে মাধ্যমিক বিন্দুর ব্যবহার শুরু করেন। নেপিয়ার পাটীগাণিতিক গণনা সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন যান্ত্রিক ব্যবস্থাও উদ্ভাবন করেন।
তাঁর রচিত The Book of Addition and Subtraction According to the Hindu Calculation ( যোগ-বিয়োগের ভারতীয় পদ্ধতি ) তারই উদাহরণ। আরবি ভাষায় তাঁর রচিত গ্ৰন্থই সর্বপ্রথম ল্যাটিন ভাষায় অনুদিত হয়। পাশ্চাত্য সভ্যতায় ল্যাটিন ভাষার মাধ্যমেই তাঁর গবেষণার বিকাশ ঘটে। অ্যালগরিদমের ( Algorithm ) উৎপত্তিই এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাঁর রচিত পুস্তক ( কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলা ) হতে বীজগণিতের ইংরেজি নাম আলজেবরা ( Algebra ) উৎপত্তি লাভ করে। খলিফা আল মামুনের মৃত্যুর 14বছর পর ( আনুমানিক 850 খ্রিষ্টাব্দে ) আল খোয়ারিজমির মৃত্যু হয়।
জোহান কার্ল ফ্রেডরিক গাউস ( Carl Friedrich Gauss )
জন্ম : 30 / 04 / 1777 খ্রিষ্টাব্দ
মৃত্যু : 23 / 02 / 1855 খ্রিষ্টাব্দ
আয়ুষ্কাল : 78 বছর
জন্মস্থান : জার্মান
জোহান কার্ল ফ্রেডরিক গাউস একজন বিখ্যাত জার্মান গণিতবিদ যিনি 1777 সালের 30 এপ্রিল জন্মগ্ৰহণ করেন। তাঁর পিতা-মাতা ছিলেন নিতান্তই খেটে – খাওয়া শ্রেণির। শৈশবেই তিনি তাঁর গাণিতিক প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন। তাঁর অসাধারণ প্রতিভা সম্বন্ধে বেশ কিছু গল্প প্রচলিত আছে। তাঁকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতবিদ এবং ( গণিতের যুবরাজ ) বলা হয়। কথিত আছে মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবার হিসাবের খাতার ভুল ধরে দেন মনে মনে গণনা করে।
গণিতের যে সব বিষয়ে তাঁর অবদান আছে তার মধ্যে আছে সংখ্যাতত্ত্ব, গাণিতিক বিশ্লেষণ, অন্তরক জ্যামিতি, চম্বুকের ধর্ম, আলো বিজ্ঞান, জ্যোতিবিজ্ঞান ইত্যাদি। গাউস 1798 সালে মাত্র 21 বছর বয়সে তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ ( ডিসকিশিয়নেস এরিথমেটিক ) লেখা সমাপ্ত করেন, যা 1801 সালে প্রকাশিত হয়। 1796 সালটি ছিল গাউস এবং সংখ্যাতত্ত্ব উভয়ের জন্যেই অন্যতম সফল একটি বছর। মার্চের 30 তারিখ তিনি হেপ্টাডেকাগন অঙ্কনের একটি কৌশল উদ্ভাবন করেন। তিনি মডুলার এরিথমেটিক আবিষ্কার করেন, যা সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব-নিকাশ বহুগুণ সহজতর করে। তিনি একই সনের 4 এপ্রিল কোয়াড্রেটিক রেসিপ্রোসিটি নিয়মটি প্রমাণ করেন।
এই অসাধারণ সূত্রের মাধ্যমে কোনো দ্বিঘাত সমীকরণ মডুলার, পাটিগণিতের মডুলার, পাটিগণিতের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব কিনা তা নির্ধারণ করা যায়। 31 মে তিনি মৌলিক সংখ্যা উপপাদ্যটি অনুমান করেন, যা মৌলিক সংখ্যার বণ্টন সম্বন্ধে ধারণা প্রদান করে। তাঁর সম্বন্ধে আরেকটি বহুল প্রচলিত গল্প আছে। একবার তাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুষ্টু ছাত্রদের ব্যস্ত রাখার জন্য 1 থেকে 100 পর্যন্ত সংখ্যাগুলো যোগ করতে বলেন। গাউস তাঁর শিক্ষককে অবাক করে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই সঠিক উত্তরটি বের করে ফেলেন। তিনি 1855 সালের 23 ফেব্রুয়ারি 78 বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।
বিখ্যাত গণিতবিদ সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুণ…
ইতিহাসে বিখ্যাত গণিতবিদ - Pathokia
[…] বিখ্যাত গণিতবিদ সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুণ… […]
ইতিহাস বিখ্যাত গণিতবিদ - Pathokia
[…] বিখ্যাত গণিতবিদ সম্পর্কে আরো জানতে এখানে ক্লিক করুণ… […]